সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
E-Paper-12.10.2021 E-Paper-15.08.2021 নড়াইলে কঠোর লকডাউন চলছে, আক্রান্তের হারও হু হু করে বাড়ছে থেমে নেই মৃত্যু কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টারে গুলি: ‘জাকারবার্গ’কে খুঁজে দিতে পুরস্কার ঘোষণা! মাগুরার মহম্মদপুরে যুবকের বস্তাবন্ধি লাশ উদ্ধার। ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত শিশু কন্যার জীবন বাঁচাতে সাহায্য কামনা অনুষ্ঠিত হলো তথ্য কর্মকর্তাদের ভার্চুয়াল কর্মশালাঃ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মীদেরকে সরকার ও জনগণের মধ্যে “সেতুবন্ধ” বললেন সচিব নগরকান্দায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষ আহত -১৫ কুষ্টিয়ায় আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা আটক আলফাডাঙ্গায় আ’লীগ নেতার বাড়িতে হামলা গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

প্রভু,ক্ষমা করো, সত্য ভাষণ-16.10.2018

-মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিঞাঃ

বিরাট বিশাল গহীন এক জঙ্গল। সেখানে রাতে চাঁদের কিরণ, দিনে সূর্যের আলো কোনটাই প্রবেশ করে না। তবে ফল মূলের কোনো অভাব নেই। ঐ জঙ্গলে দীর্ঘদিন ধরে বাস করে চার যুবক। সবার বয়স কুড়ি থেকে পঁচিশের কোঁঠায়।
একজন পাকিস্তানী, একজন ভারতীয়, একজন নেপালী অন্যজন বাংলাদেশী।
পাকিস্তানী যুবকটি জন্মান্ধ। মায়ের পেট থেকে অন্ধ হয়ে জন্ম নিয়েছে, কোনোদিন দুনিয়া এবং আলোর মুখ চোখে দেখেনি। মনে প্রচন্ড কষ্ট। ভারতীয় যুবকটি মায়ের পেট থেকে খোঁড়া হয়ে জন্ম নিয়েছে, একদিন হেঁটে বা দৌঁড়ায় দেখে নি। তারও মনে ভয়ানক কষ্ট।
নেপালী যুবকটির পিঠে প্রায় আধামণ ওজনের বিরাট এক কুঁজ। একদিনও আরাম করে এক পা হাঁটতে পারে নি। তার কষ্টের ও সীমা নেই। বাংলাদেশী যুবকটির আপদমস্তক মারাত্মক চুলকানীতে ভরপুর। এক মুহুর্তের জন্যেও না চুলকায়ে থাকতে পারে না। কোনো কোনো স্থানে একেবারে দগদগে ঘা। নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় সব সময়। এত কিছুর পরেও চার বন্ধুর পরম ভাব। কখনও কিছু খেয়ে, কখন না খেয়েই সময় পার করে। চাওয়া আর পাওয়ার আশা অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে ওদের কাছ থেকে।
দিন রজনী কষ্টের সাথে যুদ্ধ করে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। হঠাৎ একদিন ফজরের নামাজের আগ মুহুর্তে মাথায় সাদা টুপি পাগড়ী, পরনে সাদা পাজামা, গায়ে আলখিল্লা ও সাদরিয়া, হাতে তাজবীহ সহ হাজীর হলেন শতবর্ষী এক দরবেশ ‘আল্লাহু আকবর’ আওয়াজ করতে করতে।
এসে হাজির হলেন ঐ চার যুবকের কাছে। প্রথম প্রথম যুবক চতুষ্টয় ভয়ে ঘাবড়িয়ে গেলো। দরবেশ তাদের অভয় দিলেন তোমরা ভয় পেয়ো না। আমি আল্লাহর তরফ থেকে এসেছি তোমাদের ভালো করতে। আল্লাহ তোমাদের কষ্ট দিব্যি অবগত আছেন। আমি শুধু তোমাদের কষ্ট দূর করতে এসেছি। দরবেশজী শর্ত দিলেন। একজনে যে কোনো একটা সমস্যা আমার কাছে পেশ করতে পারবা। তার বেশী নয়। আল্লাহ ভালো করবেন।
প্রথমেই দরবেশজী পাকিস্তানী যুবককে বললেন, তোমার সমস্যা কি বলো।
পাকিস্তানী যুবক বললো, হুজুর আমি জন্মে আলোর মুখ চোখে দেখিনি। দেখিনি আল্লাহর দুনিয়া। যদি আমার চোখের নজর ভালো করে দিতেন।
দরবেশজী আল্লাহ শাফী বলে মুখে হাত বুলালেন। সাথে সাথেই যুবক তার চোখের জ্যোতি পেলো, যাবতীয় কিছু সুন্দর ভাবে দেখতে পেলো। মুহুর্তেই আনন্দে আটখানা হয়ে পড়লো। সবাই অবাক, হতবাক, বিষ্মিত।
দরবেশজী এবার ভারতীয় যুবকটিকে বললেন, বাবা তোমার কি সমস্যা আছে আমাকে তুমি নির্দিধায় বলতে পারো। তবে মাত্র একটি সমস্যা। ভারতীয় যুবকটি বললো, হুজুর আমি মায়ের পেট থেকে পড়ে এক কদম হেঁটে দেখিনি। যদি আমার জন্য আল্লাহর দরবারে একটু ফরিয়াদ করতেন। দরবেশজী এবার আল্লাহু শাফী বলে সারা শরীরে হাত বুলালেন। যুবকটি সাথে সাথেই সুস্থ্য হয়ে দৌঁড়াদৌঁড়ি শুরু করলো। জীবনের প্রথম হাটা অনুভূতিই ভিন্ন। দরবেশজীর পায়ের উপর এসে কৃতজ্ঞতায় লুটিয়ে পড়লো।
এবার দরবেশজী নেপালী যুবকটিকে বললেন, বাবা তুমি এবার তোমার সমস্যার কথা বলো। তবে যে কোনো একটা।
অত্যন্ত বিনয়ের সাথে নেপালী যুবকটি বললো,
বাবা আমি দুনিয়ায় আগমনের পর দেখছি আমার পিঠের উপর মস্ত বড় এক কুঁজ। বর্তমানে তার ওজন হবে আধামণ। জীবনে একদিনও চিৎ হয়ে শুয়ে দেখতে পারিনি। ঐ কুঁজের বিশাল ওজন নিয়ে এক পা হাটতেও পারি না, বসতেও পারি না। যদি একটু আমার জন্য সৃষ্টিকর্তার দরবারে
প্রার্থনা করতেন।
দরবেশজী এবার বিসমিল্লাহ আল্লাহ শাফী বলে যুবকের কুঁজে হাত বুলালেন। সাথে সাথে আল্লাহর হুকুমে যুবকের পীঠ থেকে মস্তবড় কুঁজটি অদৃশ্য হয়ে গেল। যুবকটি আনন্দে বিগলিত হয়ে পড়লো। শুরু হলো কৃতজ্ঞতার পালা।
এবার দরবেশজী বাংলাদেশী যুবকের শরীরে ভয়ংকর দগদগে ঘা, চুলকানী দেখে নিজেই খুব ঘাবড়িয়ে গেলেন। তারপরও বাংলাদেশী যুবককে বললেন, বাবা তোমার তো জীবন মরণ সমস্যা। তোমার জন্য আল্লাহর কাছে কি ফরিয়াদ করতে পারি। দরবেশজীর পরোপকারী কথা শুনলো খেয়াল করে। তারপর গা চুলকানো বাদ দিয়ে জোড়হাত করে বললো, দরবেশ বাবা। আমার যত কষ্ট হচ্ছে হোক। আমার চুলকানী, র্পাঁচড়া, দাদ কোনটাই ভালো হবার দরকার নেই। দরবেশ বাবা; আমি চাই আমার এই তিন বন্ধু যেন পূর্বের ন্যায় হয়ে যায়। আমি ওদের ভালো দেখতে চাই না। ওরা যেমন ছিল ঠিক তেমনই থাক।

সুপ্রিয় পাঠক!
এই গল্পটি বিদেশী একটি ম্যাগাজিন থেকে সংগ্রহ করা। বাংলাদেশীরা কতটা পরশ্রীকাতর তা বুঝানো হয়েছে।
আজ থেকে শতাধিক বছর আগে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রচন্ড আক্ষেপ করে লিখেছিলেন,
“সাত কোটী সন্তানের
হে মুগ্ধ জননী,
রেখেছো বাঙালী করে
মানুষ করোনি”।

এই ক্ষণজন্মা কবি বুঝতে পেরেছিলেন আর যা হোক এই বাঙালী কোনো দিনই মানুষের পর্যায়ে পৌঁছাবে না। আমরা কি কৃতজ্ঞ জাতি হতে পারবো না ?
তা হলে নিচের ছড়াটাই কি ঠিক !
“তেলাপোঁকা আকাশে উড়ে
পাখি নয় কিন্তু,
হাত-পা সবই আছে
বাংলায় কথা বলে
মানুষ নয় জন্তু”

পাঠক! এই পত্রিকায় আমার কলামের নিচে আমার মোবাইল ফোন নম্বারটি দেয়া থাকে শুধু পাঠক গ্রহণ যোগ্যতা যাচাই ও প্রতিক্রিয়া জানার জন্য। খুশীর বিষয় হলো শত শত ফোন পেয়েছি সুহৃদদের কাছ থেকে। অভিযোগ, অনুযোগ পাইনি। ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছি। এই অল্প পরিসরে সবার কথা লেখা সম্ভব নয়।
দু’এক জনের নাম না বললেই নয়। তারা হলেন, নিউ মডেল প্রি-ক্যাডেট এর উপাধ্যক্ষ ডাঃ হাসিনা মমতাজ হ্যাপি, আল হাসান মহিলা মাদরাসার তাহমিনা খানম, শাফিউন হোমিও ফার্মেসীর ডাঃ মেহেদী আহসান, রহমান ড্রাগসের মোঃ মুরাদ হাসান, গুণবহার ভুলু, আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান খান টুনু, বণিক জুয়েলার্সের সুমন বণিক (মদন), দূর্গাপুরে অবস্থিত গোল্ডেন প্রি-ক্যাডেটের সাবেক প্রিন্সিপাল জনাব সিরাজুল ইসলাম মিঞা। সিরাজুল ইসলাম মিঞার জন্ম তেলজুড়ীর এক বনেদী ঘরে হলেও বর্তমানে বসবাস দুর্গাপুরে। ক্রীড়া, সাহিত্য ও সঙ্গীত প্রেমী সিরাজুল ইসলাম মিঞা এবং তার দুই সহোদর টুকু মিঞা ও সাবু মিঞা তিন ভাই (দুর্গাপুরে অবস্থিত) তেলজুড়ী দেবেন্দ্র মেমোরিয়াল হাই স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তিন ভাইয়ের একত্রে একই স্কুলে শিক্ষকতা এক নজীর বিহীন ঘটনা। দুর্গাপুর নিবাসী মনীন্দ্রনাথ সিকদারের তিন পাখীর এক খন্ড জমি অনুদানে স্কুলটি স্থাপিত হয় ১৯৬৪ সালে, তখন এক সঙ্গে একটা জমি দান করার মতো কোনো দানবীর ছিল না। জানিনা তিনি জমিটা দান না করলে এ স্কুলটি স্থাপিত হতো কিনা। স্কুলটি স্থাপিত হবার আগে আমরা জায়গার কাঙ্গাল ছিলাম। কিন্তু জায়গা পেয়ে স্কুল নির্মাণের পর এতটা ধনী বনে গেলাম যে, ভূমি দাতার নামটা খতনা করে তেপান্তরে পাঠিয়ে দিলাম আজীবনের জন্য।

দেবেন্দ্র বাবুর সন্তানরা কোটী টাকার সম্পদ দান করে কি পরিমাণ অপরাধ করেছিলেন ?
জনগণ আগামীর জন্য কি শিক্ষা নেবেন।
তেলজুড়ীর হাট, প্রাইমারী স্কুল, হাই স্কুল, পোষ্ট অফিস, সবইতো দুর্গাপুরের জায়গায় স্থাপিত। দুর্গাপুরের একটি শিশুওতো এ নিয়ে আপত্তি তুলে নি। ভুলেও তো আমরা সেকথা মনের কোণে স্থান দেই নি। কৃতজ্ঞতা বিবর্জিত, সত্য অপসারিত, ভাগ্য বঞ্চিত ও অভিশপ্ত স্কুলেরই শরীর চর্চা ও ক্রীড়া শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম মিঞা আইনের কাছে পরাস্থ হলেও উদ্যেমের কাছে একচুলও হার মানেন নি। এখনও তার বাহন বাইসাইকেল, নজরুল সঙ্গীতের কুশলী এ মানুষটি স্কাউটে অনবদ্য অবদানের জন্য ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত মেডেল অব মেরিট গ্রহণ করেন। প্রসঙ্গত: উল্লেখ করা যেতে পারে সাপ্তাহিক আগামীর প্রত্যাশা সম্পাদক ও প্রকাশক আমার ¯েœহভাজন মোহাম্মদ মুরসিদ আহমেদ (লিটু) সিকদার তারই একজন গুণধর ছাত্র।
যাহোক আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্ম কি শিখবে ? কয়েক কোটী টাকা মূল্যের সম্পদ দান করার পরও দাতার নামটা পর্যন্ত রাখা হয় না। তা হলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কি ভাবে কিসের স্বার্থে এগিয়ে আসবে ? এই মূহুর্তে দুর্গাপুর তেলজুড়ীতে আমি একটা ডিগ্রী কলেজের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। উপজেলা পর্যায়ে ছাড়া আর কোনো কলেজ নেই। অথচ আমাদের শত শত ছেলে মেয়েরা কি যে কষ্ট করে কলেজ করতে যায়। দাদুড়িয়া কলারণ কোনো রাস্তাই ঠিক নেই। চলার অযোগ্য।
ঠিক এ মূহুর্তে এক প্রত্যাশা পাঠক ফোন করে বললেন পাট নিয়ে লিখতে। আমি তাকে বোঝাতে পারিনি ঐ পাঠক এই সাংবাদিকের চাইতেও পাটের ব্যাপারে ভালো জানেন।
পাট আগে ছিল সোনালী আঁশ। এখন গলার ফাঁস। একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের সাত দিনের বেতন লাগে একজন পাট কাটা কৃষকের এক বেলার মজুরী গুণতে। পানির অভাবে পাট পঁচাতে বহন করে নিতে হয় নছিমন নামক প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে অনুমোদন ও অনুমতিবিহীন এক নিশ্চিত মৃত্যু ফাঁদকে। রাস্তা কৃষকের দখলে। পাট বাছা ও খড়ি রৌদ্রে দেয়া। ধানের খড় নাড়া। ধান শুকানো শস্য নাড়া, গরু ছাগল বেঁধে রাখা ইত্যাদি। পাট শুকানো পরে সুকৌশলে সিরিঞ্জ দিয়ে পাটে পানি মিশানো। ওজন বাড়ানো। আল্লাহর তরফ থেকে শীল পড়ে পাটের ওজন কমিয়ে দিয়েছে।
পাট ক্রেতারা পাট কিনেন ৪১ কেজিতে এক মণ। সামান্য হাতে গোনা কয়েকজন পাটের পাইকারের কাছে পাট বিক্রেতারা জিম্মি। এদের কিছু বলার মতো কেউ নেই।
অথচ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রয়েছে। মন্ত্রী বাহাদুর, সচিব রয়েছেন যাদেরকে জনগণের পয়সার বেতন ভাতা গুণতে হয় নিয়মিত। আরো রয়েছে ছারপোঁকা ও চীনা জোঁকের মতো রক্ত চোষা কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ। এদের কাজ শুধু মোড়লপণা করা।
আমাদের নেতা বলে গেছেন, “লোকে পায় সোনার খনি, আমি পেয়েছি চোরের খনি”।

আমি শ্রদ্ধার সাথে কথাটি স্মরণ করে বলতে চাই-
“আল্লাহ তুমিই মালিক
কাউরে দিলে টিয়ার বাচ্চা
আমায় দিলে শালিক”।

Print Friendly, PDF & Email


     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ