1. letusikder@gmail.com : agameerprotyasha :
  2. sabbir.bdwebs@gmail.com : sabbir : S.M. Rubel
ঘুম পাড়ানোর সাথী - আগামীর প্রত্যাশা ডটকম
শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, ০১:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নতুন মোটরসাইকেল কিনে বাড়ি ফেরা হলোনা যুবকের ফরিদপুরে আহলে হাদিস মসজিদ ও মাদরাসা ভাঙ্গার প্রতিবাদে খুলনায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত E-Paper-06.12.2020 স্বাধীন দেশে মৌলবাদের কোন জায়গা হবে না’ -মুশা মিয়া বোয়ালমারীতে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫ রেলওয়ের ৮৪ শতাংশ লেভেল ক্রসিং অরক্ষিতঃ কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলতে পারছে না ট্রেন *বাড়ছে দূর্ঘটনা, প্রতিকারে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেই পাংশা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা পরস্পর বিরোধী অবস্থানেঃ প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা পাংশায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে পেঁয়াজ বীজসহ বিভিন্ন ধরনের বীজ ও সার বিতরণ মন্দির থেকে মূর্তি চুরি E-Paper-22.11.2020

ঘুম পাড়ানোর সাথী

  • প্রকাশের সময় :বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০
  • ১১২বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সিরাজুল ইসলাম মিয়া:

কলেজের প্রবেশ পথেই দেখে সঞ্চিতা, ইনুর সাথে কথা বলছে রনিক। একবার চোখে চোখ পড়ল দু’জনের। মৃদু হাসল। এই প্রথম। কথা নেই। সরকারী কলেজ। কলেজে রনিকের বেশ খানিক পরিচিতি একজন কন্ঠ সঙ্গীত শিল্পী হিসাবে।

মধ্যহ্নের বিরতী। একটু দ্রুতই পাশ দিয়ে যাচ্ছিল সঞ্চিতা। কথাটা প্রথম রনিকের দিক থেকে এলো। খুব যে ব্যস্ত। কোথাও যাচ্ছেন বুঝি। অবাক হ’লোনা সঞ্চিতা। বলে,তা আপনি এখানে একা একা দাঁড়িয়ে…? কই, এই তো দু’জন হলাম। একটু নিরব থেকে সঞ্চিতা বলে- কালকের অনুষ্ঠানে আপনার গানটা খুব ভাল লেগেছিল। ও একটু হেসে দিয়ে বলে আপনাদের ভালো লাগার মাঝেই তো আমার সঙ্গীত পরিবেশনার সার্থকতা।

মাঝে মধ্যে ওদের এক আধটু কথা হয়। এতে একে অপরের খানিক কাছেই এসে পড়েছে বলা চলে; একটু প্রেমের সম্পর্ক। আজ হঠাৎ করে ওদের দু’জনের দেখা রায়দের সুবিশাল শৈবাল দীঘির ঘাটলায়। অনেক স্মৃতি এ দীঘির জলে ভাসা শৈবালের সাথে জড়িয়ে আছে । কথা বলে সঞ্চিতা, কাল ফেসবুকে দেখলাম তোমার নামের সাথে একটি কথা, “ঘুম পাড়ানোর সাথী” নামটা আমার মোটেও ভালো লাগে নাই। রনিক হেসে দিয়ে বলে, আরে তুমি যা ভাবছ ,তা নয়। ওর উল্টো দিকে ভাবতে হবে।

হ্যাঁ, ক’দিন ভাবছি তোমাকে কিছু একটা অফার করব। এই নাও। এটা রেখে দাও। পরে কারো কাছে এর সম্পর্কে জেনে নিও। কাজে আসবে। ওটা সম্পর্কে জেনে সঞ্চিতা যা লাভ করেছে, অত্যন্ত ভয়াবহ। বুঝতে পারে নাই সঞ্চিতা, রনিক ওকে কোথায় ঠেলে দিচ্ছে। সব কিছুর অন্তরালে যে বস্তুটি সঞ্চিতার যথেষ্ঠ প্রয়োজন তা হলো টাকা। আর সে টাকা সঞ্চিতাকে ফাঁদে আটকিয়ে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে রনিক। এদিকে প্রেমের টান, অন্যদিকে নেশা। রনিকের কাছে ও সব প্রেম টেম চুলোয় যাক, সে এখন রীতিমত একজন কমার্শিয়াল র্পাসন।
মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে সঞ্চিতা। ওর বাবা একজন সহজ সরল মানুষ। কৃষি কাজের সাথে ছোট খাট একটা ব্যবসা। গ্রামের মানুষ তাকে মডেল ফারমার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সঞ্চিতার আরো দু’টো ভাই বোন আছে। ওরা প্রাইমারী স্কুলে পড়ে। মা বাবার ইচ্ছা, ওদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলবেন।

কলেজে যাওয়ার সময় প্রায়ই সঞ্চিতা টাকার জন্য ধর্ণা দেয় মায়ের কাছে। যতদুর সম্ভব মা ওর চাহিদা পুরণ করতে চেষ্টা করেন। আবার এও তিনি ভাবেন, এত পয়সা ওর কিসের জন্য খরচ হয়। কলেজের পথ তো বাড়ি থেকে বেশি দুরে নয়। তাহলে…! না তাইবা হবে কেন! মেয়ের প্রতি যথেষ্ঠ বিশ্বাস মায়ের।

এর মধ্যে সঞ্চিতা মায়ের কাছে এসে টাকা চাইল। কিন্তু টাকা না থাকায় মা টাকা দিতে অসম্মতি প্রকাশ করলে ফলটা দাঁড়াল উলটো। মায়ে ঝিয়ে বেশ কথা কাটাকাটি যেমন টি মা কোনোদিন সঞ্চিতার কাছ থেকে আশা করেনি। এর পর থেকে মায়ের দিন বেশ মন-কষ্টের মাঝ দিয়ে কাটতে লাগল। কেন এমন হলো? বেশ কিছুদিন ধরে তিনি লক্ষ করে আসছিলেন সঞ্চিতার মেজাজটা খিটখিটে। শরীর কৃষ্ণকায় সমস্ত দেহমনে তন্দ্রাছন্ন ভাব।

বিষয়টি তিনি সঞ্চিতার বাবাকেও বলেছেন। তিনি তেমন গুরুত্ব দেননি। বলেছেন সামনে পরীক্ষা, পড়াশোনার চাপ। হয়ত এমন একটা কারণ হতেও পারে। সঞ্চিতার মা আর কোন কথা বলেন নাই।

আজ কলেজে এসেই সঞ্চিতা রনিকের সাথে দেখা করে বলে, দরকার তো হবেই। এই নাও এর মধ্যে যা আছে তাতে অনেক টাকা হয়ে যাবে। ভাবনার কোন কারণ নেই। সঞ্চিতা সামনের দিকে পা বাড়াচ্ছিল। রনিক বাধা দিয়ে বলে, শোন! একটা কাজ করতে হবে। “ঘুম পাড়ানোর সাথী” ওই খানটায় (ফেসবুক) তারিখ, স্থান, সময় দিয়ে উপস্থিত থাকলেই সব পেয়ে যাবে; বাস।

এলাকাটি মাদকের দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসন নির্লিপ্ত রয়নি। যেটুকু সংগ্রহ করেছে, তাতে শিকার হাতের মুঠোয়। ওইতো, সঞ্চিতা দেখতে পাচ্ছে, এ দিকেই এগিয়ে আসছে। চার জন। দুই জন মেয়ে মানুষ। আমার দলেরই, মন্দ কি? সাদা পোষাক, একে বারে কাছে। দিন, কত পিচ? যা আছে সবই দিন।

টাকা? এইতো; পিছন থেকে মহিলা দু’জন সঞ্চিতার দু’হাত শক্ত করে ধরে বলে- কতদিন এমন জঘন্য কাজের ব্যবসা করছেন। পাশের থেকে এস.আই কামাল পকেট থেকে একটা কার্ড দেখিয়ে বলে, ওইতো থানা! চলুন। সঞ্চিতার বুকটা একবার ভীষণভাবে কেঁপে উঠল। মনে হচ্ছিল ওর পায়ের নিচ থেকে পৃথিবী সরে যাচ্ছিল। তার পর নিজেকে একটু সামলিয়ে নিয়ে বলে চলুন।

ওসি কবির আহম্মেদ অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ও শুধু অঝরে কেঁদেছে বার বার। একটি মাত্র স্বীকার উক্তি দিয়েছে ও । আমার এক বন্ধু প্রেমের নামে প্রহসণ করে আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। ওসি সাহেব হেসে দিয়ে বলেন, মাদক দ্রব্য কেনা বেচা কত দিন? সঞ্চিতা উচ্চস্বরে আর একবার কেঁদে বলে, স্যার, এই প্রথম, এই শেষ।

ওসি সঞ্চিতার দিকে চেয়ে ভাবলো এ ও কি সম্ভব! একটা সদ্য পুষ্পিত জীবন, চক্রান্তের জালে পড়ে এক অশুভ কুৎসিত বিভীষিকার থাবায় গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে। যদি একটু সহানুভূতির ছোঁয়ায় পথের দিশা দেওয়া যায়, তাহলে হয়ত আচিরেই একটা উজ্জল আলোর সন্ধান পেতে পারে। তিনি ওর কেসের চার্জশিট টায় ওকে মাদক ব্যবসায়ী না লিখে জেল কর্তৃপক্ষের মারফত মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করল।

বছরান্তে বাড়ী ফিরে এসেছে সঞ্চিতা। মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে কেঁদেছে অনেক, ছোট ভাই রনিদের জাপটে নিয়েছে বুকের মাঝে, পেয়েছে নতুন জীবন, পেয়েছে চলার গতি।

কিছুদিন পর মা বাবার অনুমতি নিয়ে কলেজে এলো সঞ্চিতা। সঞ্চিতা এখন আর সঞ্চিতা নয়, সে এখন এক আলোর প্রতীক পুরনো বন্ধুরা ওর কাছে এসে ভীড় জমায়, অনেকের অনেক প্রশ্ন, অনেক কথা। এরই মধ্যে রনিক এসে হাসতে হাসতে বলে, সঞ্চিতা যে? কখন এলে? সঞ্চিতা কোন উত্তর দেয় না। চোখ দু’টো ওর বিস্ফোরিত। সমস্ত শরীরটা ঘেমে ওঠে তার। ঠাস করে ওর গালে দু’টো চড় বসিয়ে দিয়ে বলে এই নাও তোমার প্রহসণ মূলক প্রেমের প্রতিদান।

বিকাল বেলা অফিসে বসে আছেন ওসি কবির আহম্মেদ। হঠাৎ দরজার কাছে ছায়ার মত “মে আই কামিন স্যার’’ চোখ ফিরাতেই দেখে সঞ্চিতা। চিনতে ভুল করেন না তিনি। সঞ্চিতা যে! এসো; কেমন ছিলে? সঞ্চিতা উত্তর করার ভাষা খুঁজে পায়না, অনেকক্ষণ নীরব থেকে বলে, আপনার ঋণ পরিশোধ করার কোন যোগ্যতা বা সাধ্য আমার নেই বলে পায়ে হাত দিতে যাচ্ছিল।

তিনি বাধা দিয়ে বলেন- অতদুর যেতে হবে না তোমার। সঞ্চিতা ওসি সাহেবের মুখের দিকে চেয়ে বলে, স্যার! আপনি আমার নতুন জীবনের পটভূমি এঁকে দিয়েছেন। আলোর দিশারী ওসি চেয়ে দেখেন সঞ্চিতার দু’গন্ড বেয়ে অশ্রæ ঝরছে। ওসি অশ্রæ মুছায়ে বুকের মাঝে টেনে নিয়ে বলেন, যারা সহজে নিজের অবস্থানকে বুঝতে পারে, তাদের কখনও পরাজয় হয় না। সঞ্চিতা! আবেগ নিয়ে জীবন নয়, কঠোর বাস্তবতার সাথে তাল রেখে চলার নামই জীবন।

Comments are closed.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
Copyright November, 2014-2020 @ agameerprotyasha.com
Website Hosted by: Bdwebs.com
error: Content is protected !!