বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৫:২১ অপরাহ্ন

কার ভুলে ভুগছে ওরা!

অনলাইন ডেস্কঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী গোলাম মোর্শেদ৷ ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের এই শিক্ষার্থী ২০১৮ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে দ্বিতীয় বর্ষের দুইটি মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেন। ২০১৯ সালে প্রকাশিত ফলাফলে একটি বিষয়ে পাস এলেও আরেকটি বিষয়ের ফলাফলের ঘরটি খালি আসে।

পরে এই শিক্ষার্থী ২০১৯ সালের ২৭ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর আবেদন করেন। এরপর কয়েক দফা যোগাযোগ করলেও মেলেনি সেই বিষয়ের ফল। এমনকি ওই বিষয়ে পাস নাকি ফেল করেছেন তা-ও জানেন না এই শিক্ষার্থী। স্নাতক শেষে সহপাঠীরা বিভিন্ন চাকরিতে যোগদান করলেও নিজের কোনো গতি করতে পারেননি এই মোর্শেদ।

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী রাসেল হোসেন। প্রথম থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত সব বিষয়ে পাস থাকা সত্ত্বেও সিজিপিএ আসেনি এই শিক্ষার্থীর। সিজিপিএ প্রকাশের জন্য করতে হবে ফলাফল সমন্বয়ের আবেদন। এতে আবার সব বর্ষের ফলাফলের কপি, পরীক্ষার প্রবেশপত্রসহ আবেদন পত্রে নিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের স্বাক্ষর, কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষরসহ আবেদনপত্রটি জমা দিতে হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর। কিন্তু ফলাফল সমন্বয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হওয়ার কথা। নিজের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার সব বিষয়ে পাস থাকলেও আমার ফলাফল অসম্পূর্ণ আসছে। ফলাফল সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূর করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা কলেজের এই শিক্ষার্থী।

আবার সব বিষয়ে পাস করলেও আবু তালেব নামের কবি নজরুল সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থী গত ফেব্রুয়ারিতে ফলাফলের জন্য আবেদন করেও এখনো ফল পাননি।

সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী শিলা আক্তার। অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষায় কেন্দ্র পড়ে সরকারি বাঙলা কলেজে। এই শিক্ষার্থী সব পরীক্ষায় অংশ নিলেও একটি বিষয়ে অনুপস্থিত দেখায়। পরে সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে হাজিরা খাতার ফটোকপি নিয়ে নিজ কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষরসহ ঢাবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বরাবর আবেদন করতে হয় তাকে।

শিলা বলেন, ‘শুধুমাত্র কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায় আমার ফলাফল অসম্পূর্ণ আসে। আমি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি৷ শুধুমাত্র তাদের ভুলের কারণে আজও আমি সরকারি কোনো চাকরিতে আবেদন করতে পারছি না। আমি সব ডকুমেন্টস নিয়ে ঢাবির অফিসে গিয়েছিলাম। উনারা দুই মাস পর যোগাযোগ করতে বলে। এই সমস্যার শেষ কবে?’

আল আমিন নামের আরেক শিক্ষার্থী গত ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রের হাজিরা খাতার ফটোকপিসহ আবেদন করলেও দীর্ঘদিনেও ফল সংশোধন করতে পারেননি।

কিছুদিন আগেই কিস্তি আকারে শুরু হয় সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফলাফল প্রকাশ। এতে অনেক শিক্ষার্থীর সিজিপিএ আসেনি। এখন এসব শিক্ষার্থীদের করতে হবে ফলাফল সমন্বয়ের আবেদন। তবে মহামারি করোনাভাইরাসের এই সময়ে শিক্ষার্থীরা যার যার বাড়িতে অবস্থান করছেন। এই অবস্থায় ঢাকায় এসে সব বর্ষের ফলাফলের অনলাইন কপি ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে নিজ কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষরসহ আবেদন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

পরীক্ষায় অংশ নেয়ার পরও অনুপস্থিত দেখানোর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা হিসেবেই দেখছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া কেন্দ্র থেকে হাজিরা খাতার কপি শিক্ষার্থীকে নিজেই সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এরপর আবার সেই কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী।

হাজিরা খাতা পরীক্ষার কেন্দ্র বা কর্তৃপক্ষের নিকট গোপনীয় বিষয়। তবে কর্তৃপক্ষের ভুলে শিক্ষার্থীকে এইসব গোপনীয় কাগজপত্র নিজেদেরকেই সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাজ শিক্ষার্থীকে কেন করতে হচ্ছে?

সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘আমি মোট সাতটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিলেও ফলাফলে ছয়টি বিষয় এসেছে। এখন নাকি পরীক্ষার কেন্দ্র কবি নজরুল কলেজ থেকে হাজিরা খাতার কপি এনে আবেদন করতে হবে। কীভাবে আবেদন করতে হবে কিছুই বুঝতে পারছি না।’

তবে এসব সমস্যাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন সাত কলেজের সমন্বয়ক (ফোকাল পয়েন্ট) ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্ল্যাহ খোন্দকার। তিনি বলেন, অনেক সময় কেন্দ্রের অসাবধানতার কারণে পরীক্ষা দেয়ার পরও অনুপস্থিত আসতে পারে। কিন্তু এমন সমস্যা অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে করোনাকালীন সময়েও গতিশীলতা বজায় রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ফলাফল সমন্বয়জনিত সমস্যার মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীরা আবেদন করলে আবার এই সমস্যাগুলোর সমাধান হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ওএমআর পদ্ধতি চালু হলে এই সমস্যা গুলো অনেকাংশে কমে যাবে।

‘ফলাফল সমন্বয়ের আবেদন অনলাইনভিত্তিক করা যায় কি-না’-এমন প্রশ্নে অধ্যক্ষ সেলিম উল্ল্যাহ খোন্দকার বলেন, ‘হঠাৎ করে এটা করা তো সম্ভব হবে না। তারপরও আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বাহালুল হক চৌধুরীকে ফোন করলে তিনি এই বিষয়ে টেলিফোনে কথা বলবেন না বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email


     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ