আগামীর প্রত্যাশা ডটকম | logo

৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আলফাডাঙ্গায় বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগ

প্রকাশিত : নভেম্বর ১৬, ২০২০, ১৬:৫১

আলফাডাঙ্গায় বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের বেড়িরহাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগ সদস্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়েরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তাকে মিথ্যা মামলার আসামি দিয়ে এলাকাছাড়া করে তার গ্রুপের লোকজনের উপর হামলা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাটসহ মটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

মামলা হওয়ায় গ্রেপ্তার আতঙ্ককে অধিকাংশ বাড়িতে পুরুষ না থাকায় চুরি ডাকাতি আতঙ্কে রাত্রিযাপন করছে ভূক্তভোগী পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে ওই এলাকায়।
জানা যায়, স্থানীয় অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাচুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মিজানুর রহমান ও তার প্রতিদ্বন্ধী খালিদ মোশারফ রুঞ্জুর মধ্যে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর থেকে বিরোধ চলে আসচ্ছে।

গত ২৯ অক্টোবর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। ওই সময় রুঞ্জুর ভাই পাট ব্যবসায়ী
মো.রফিকুল ইসলাম বেড়িরহাট বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার সময় চেয়ারম্যান গ্রুপের প্রায় অর্ধশতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার দোকনে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় নগদ দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় রুঞ্জুর সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে মিজান সরদারের সামর্থক সাবেক ইউপি সদস্য গোলজার রহমানের বসত বাড়ির দোতলা ভবনে ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারে, এতে তার বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙ্গে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করে।

এ ঘটনার তিন দিন অতিক্রম হবার পরে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের সমর্থক পশ্চিম চরনারানদিয়া গ্রামের মোমরেজ মোল্লার ছেলে মো. অহিদুজ্জামান বাদী হয়ে খালিদ মোশারফ রুঞ্জুকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নামে একটি চাঁদা দাবি, ইমারত নির্মাণ কাজে বাঁধা ও ভাঙচুরের মামলা করেন।

এ ঘটনার জেরে গত ১৩ নভেম্বর শুক্রবারে বিকেলে টোনারচর গ্রামে রুঞ্জু সমর্থিত দুই যুবক ফাহিম শেখ ও হাবিবুল্লাহ শেখকে চেয়ারম্যানের সমর্থক ওবায়দুর রহমান ওরফে দানিয়ার তার ছেলে সজীব মোল্লা ও চাচাতো ভাই মেহেরবান অতর্কিত ভাবে হামলা চালিয়ে ও যুবকদের গুরুতর আহত করে। তাদের চোঁখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে বলে জানান ভূক্তভোগী।

এসময় দানিয়ার থানায় ফোন দিয়ে ডাকাত আটকের কথা বলে থানা পুলিশকে অবহিত করেন বলে জানা গেছে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পূর্বেই গ্রামবাসী আহতদের উদ্ধার করে। সার্বিক নিরাপত্তার অভাব থাকায় আহতদের স্থানীয় বেড়িরহাট বাজারে প্রার্থমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
স্থানীয় বানা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য( মেম্বার) মারজন মিয়া বলেন, ওবাইদুর রহমান দানিয়ার গং অন্যায়ভাবে হামলা করে তাদেরকে পিটিয়ে আহত করে। আমরা খবর পেয়ে এলাকার লোকজন নিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করি।

খালিদ মোশারফ রুঞ্জু জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটি সম্পন্ন মিথ্যা ওভিত্তিহীন। গত ইউপি নির্বাচনে আমি বর্তমান চেয়ারম্যানের সাথে প্রতিদন্ধীতা করেছিলাম। আমার জনপ্রিয়তায় আগামী নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে আমাকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমার বিরুদ্ধে নানাবিধ ষড়যন্ত্র করছে প্রতিপক্ষ। আমাকে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করে আমার গ্রুপের লোকজনদের উপর মাঝে মধ্যেই হামলা করা হচ্ছে।

আমরা বাড়ি ছাড়া থাকায় ইতিমধ্যে আমার প্রতিপক্ষ লোকজনের মদদে এলাকাছাড়া চোর ডাকাত ও মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রামে মহড়া দিয়ে বেড়াচ্ছে। যাহার কারনে চুরি ডাকাতিসহ যে কোন অপ্রীতিকর ঘটার আসঙ্কা রয়েছে। চেয়ারম্যান এসএম মিজানুর রহমানের সর্মথক ইউপি সদস্য আজগার মোল্লা পাশ্ববর্তী মাগুরা জেলার মোহাম্মাদপুর উপজেলার আড়মাঝি গ্রাম থেকে মাসুদ বাহিনিকে ভাড়া করে এনে এলাকায় প্রবেশ করে হামলা ও লুটপাট করে। আমি আমার পরিবার ও আমার দলীয় লোকজনের নিরাপত্তার জন্য সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তথা ফরিদপুর পুলিশ সুপারসহ সকলের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করছি।

খালিদ মোশারফ রুঞ্জুর পিতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাফিজুর রহমান টুকু মাষ্টার জানান, যে জমিকে কেন্দ্র করে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে ওই জমির বৈধ মালিক আমি নিজেই। আমার কাছে সেই জমির সঠিক দলিলপত্র রয়েছে এবং মাননীয় আদালত আমার পক্ষে রায় দিয়েছে। প্রতিপক্ষ আমার ছেলে রুুঞ্জুর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।
গত ১৩ নভেম্বর শুক্রবার হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওবায়দুর রহমান দানিয়ার বলেন, তারা আমার বাড়ির পাশে বসে আমাকে উদ্দেশ্য করে আজে বাজে কথা বলাবলি করায় তাদের উপর হামলা করেছি। তবে তাদের চোঁখ তুলে নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
পাচুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মিজানুর রহমান বলেন- আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমার কোনো পক্ষ বা গ্রুপ নেই। আমি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আমার কাছে সবাই সমান। ক্ষমতার দাপটে যখন তখন নিরিহ মানুষকে গালমন্দ করবে, মারপিট করবে তাতো হয় না। এলাকার মুষ্টিমেয় কয়েকজন লোকের কারনে সাধারন জনগণ অশান্তিতে থাকবে, এটা কি করে হয়?
আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয় গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্ধ রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।  বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।




error: Content is protected !!