বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ০৪:৪১ অপরাহ্ন

আলফাডাঙ্গায় আ’লীগ নেতার বাড়িতে হামলা গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের ধুলজুড়ি গ্রামের এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে মালামাল লুটপাট ও ওই নেতার প্রাইভেটকার গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২১ মে শুক্রবার সকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাচুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মিজানুর রহমান ও তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদ মোশারোফ রঞ্জুর মধ্যে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর থেকে বিরোধ চলে আসছে।

গত বৃহস্পতিবার (২০ মে, ২০২১) সন্ধ্যায় দুই গ্রুপের দুই যুবকের মধ্যে মোবাইলে কথোপকথনে বাকবিতান্ডা হয়ে হাতাহাতি ও এক পর্যায়ে খালেদ মোশারোফ রঞ্জুর ভাই লিপন ও লিপনের ছেলে এবং রফিককে পিটিয়ে মারত্নক আহত করে পাচুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মিজানুর রহমানের সমর্থক লোকজন। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে মো: রফিক ও লিপন কে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এবং লিপনের ছেলেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে খালেদ মোশারোফ রঞ্জুর সমর্থক লোকজন এসে উপস্থিত হলে স্থানীয় রেড়ীর হাট বাজারে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
এরই সূত্র ধরে শুক্রবার সকালে মিজান চেয়ারম্যানের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেড়িরহাটে অবস্থান নেয় এবং অপর একটি গ্রুপ রঞ্জু সরদারের বাড়িতে হামলা চালায় বলে একাধিক সূত্র জানায়।

এসময় বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে লোকজন দিক-বিদিক হয়ে ছুটোছুটি করে সরে যাওয়ায় কোন প্রকার অপৃতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তবে বেড়িরহাট বাজারের চান্দিতে রাখা তার (খালেদ মোশারোফ রঞ্জ) ব্যবহৃত প্রাইভেট কার টয়েটা করলা গাড়ীটি (ঢাকা মেট্রো-গ ১২-৩০৭২) ভেঙে তছনছ করে মিজান চেয়ারম্যানের সমর্থকরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

বেড়ির হাট বাজারের ব্যবসায়ী আক্কাচ শেখ জানান, ঘটনার সময় রঞ্জু বাড়িতে ছিলনা, সে আমাদের গোন্ডগোল করতে সম্পূর্ণ নিষেধ করেছে। আমরা নিরব থাকায় কেবল মাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে না পেয়ে বাজারের চান্দিতে থাকা গাড়িটি ভেঙে তছনছ করে।

খাবার হোটেল ব্যাবসায়ী আতিক বলেন, খালেদ মোশারফ রঞ্জুর জনপ্রিয়তা দেখে মিজান চেয়ারম্যানের লোকজন কিছুদিন পূর্বে রঞ্জুর বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে ছিল। আদালতে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এবারও রঞ্জুকে শেষ করে দিতে ষড়যন্ত্র করে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিজান চেয়ারম্যানের লোকজন তার বাড়িতে গিয়ে হামলা করেন। তাকে বাড়িতে না পেয়ে বেড়িরহাট বাজারে থাকা তার প্রাইভেট কারটি ভেঙে তছনছ করে। এবারও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানি করছে, আমরা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তাদের ভয়ে দোকান খুলতে পারছিনা।

পাচুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ৩ নং ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, এলাকার যুবকদের মধ্যে ফোনে কথা কাটাকাটি হয়, এই ঘটনার সূত্র ধরে রঞ্জুর ভাই তার লোকজন নিয়ে আমাদের গ্রæপের তিনজনকে পিটিয়ে জখম করে। তার মধ্যে জাফর সরদারকে ফরিদপুর মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
হতাহতের ঘটনায় আমাদের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে বাজারে গিয়ে মহড়া দেয় তবে তার গাড়ি কে বা কাহারা ভেঙেছে সেটা বলতে পারবোনা।
এ ব্যপারে খালেদ মোশারোফ রঞ্জু বলেন, আমি তো বাড়ীতেই ছিলাম না। তারা (এসএম মিজানুর রহমান গ্রুপ) আমার ভাই ভাতিজাকে মারধর করলো, আমার গাড়ী ভাংচুর করলো, অথচ আমরাই মামলায় পড়লাম। এর আগেও তারা আমার ঘরবাড়ী ভাঙলো, মালামাল লুট করলো, আবার আমাকে চাঁদাবাজী মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করে আবার আমার লোকজনকে মারধোর করলো। আমি বরাবরই ন্যায় বিচার থেকে বঞ্ছিত।

হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা শিকার করে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন পশ্চিম চর নারানদিয়া গ্রামের জাফর সরদারের স্ত্রী রেখা বেগম বাদি হয়ে ১৩ জনকে আসামী করে ও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং- ১২, তারিখ-২২/০৫/২০২১ ইং। ধারা ১৪৩/ ৩৪১/ ৩২৩/ ৩২৫/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৩৭৯/ ৫০৬/ ১১৪ পেনাল কোড। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন এস.আই মনজুর আহমেদ।

এদিকে মারামারির ঘটনায় পাঁচ যুবককে আটক করা হয়। এদের মধ্যে ৪ জনকে শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এলাকায় আইন শৃঙ্খলা অবনতির কাজে জড়িত থাকায় দঃ বিঃ ১৮৬০ এর ১৪৭ ধারায় এ দন্ড প্রদান করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহাবুবুর ইসলাম।

এদের মধ্যে তৈয়ব শেখ ও আমিনুর শেখকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড, এবং আব্দুল্লাহ ও ওবায়দুল্লাহকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে এক সপ্তাহের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। এছাড়া একজন কিশোর ও ছাত্র হওয়ায় তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেয়া হয়।
এছাড়া দন্ডপ্রাপ্তরা সংশোধিত না হলে পরবর্তীতে দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে মধুখালী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ.এস.পি) আনিসুজ্জামান জানান- উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পেয়েছি। এক পক্ষের মামলা রেকর্ড হয়েছে। অন্য আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে এবং পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে।

 

Print Friendly, PDF & Email


     এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ